গামছা ~
"ইচ্ছে
করে পরানডারে, গামছা দিয়া বান্ধি , ইচ্ছা করে"....ওরে, ইচ্ছে তো আরো অনেক রকম
করে , শুধু পরাণ কেন, গামছা দিয়ে আরও অনেক কিছু বাঁধতেই ইচ্ছে করে, কিন্তু
ইচ্ছেটাই সার বাওয়া ! যা দিনকাল পড়েছে , তাতে এখনো গামছা ইউজ করি শুনলে, লোকজন
প্রায় একঘর করে দেয় আর কি ! সেই যে সেবার, বোলপুর থেকে ফিরছিলাম কবি সন্মেলন থেকে,
সঙ্গে এক পাল ঝকঝকে তকতকে শহুরে কবিনী। তা জমিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়া হলো আচারের তেল আর
নারকোল দিয়ে, আইপ্যাডে লাইভ রেকর্ডিং হলো ঝুঁটি বাঁধা বাউলের গান, আর তার পরেই
রামপুরহাট থেকে ট্রেনে উঠলো ওই গামছাওয়ালা ! তা কি সুন্দর সুন্দর গামছা, সে আর কি
বলব ! লম্বায় বহরে প্রায় দুই মানুষকে জড়ানো যায় পাকেদন্ডে। সেকালে দ্রৌপদীকে পরিয়ে
রাখলে আর বস্ত্রহরণের ভয় থাকত না কো ! ডুরে ডুরে গোলাপী সবজে ছাপা তো ছিলই আবার
সঙ্গে ছিল উরিষ্যার কটকি প্রিন্টের হাল ফ্যাশনের নরম দো বিঘা জমিন, গামছা।কি দিশি,
কি দিশি, দেখলেই মনে হয় গায়ে জড়িয়ে অথবা গলায় ফাঁস দিয়ে মরে যাই, এমন নয়নসুখ
গামছায় মরেও সুখ, আহা। তো যাই না দেখিছি
আর হাঁ হাঁ করে কিনতে গেছি, সঙ্গের রুপোর নাকফুল আর ঠোঁটে সিগারেট বন্ধুনিটি
ঝাঁঝিয়ে উঠলো," ছিঃ, ম্যাগো ! শেষে গামছা কিনবে ? তোমরা কি প্রি-হিস্টোরিক
রকম নিয়ানডারথাল হিউম্যান বিয়িং গো ! ছবিছাপা যা দাও, তাতে তো বেশ কামিং অফ এজ'ই
লাগে কিন্তু ভেতরে ভেতরে গামছা !!' গামছার
সেই ঠোঁট উল্টানো অপমান মাখানো থর থর উচ্চারণে আমি তো তখন, ধরণী দ্বিধা হও.....মনে
হলো প্রেস্টিজে গ্যামাক্সিনটা কিছু না হোক গামছার চাইতে ঢের ভালো ছিল ! বন্ধুনি
থামলেন না, বলেই গেলেন জাস্ট এক্সটিণ্কড হয়ে যাওয়া একটা বাথরুম অ্যাকসেসরিজকে কিরম
আমরা এখনো ধম্মের ষাঁড়ের মত টেনে নিয়ে যাচ্ছি, ইত্যদি ইত্যাদি ! সেযাত্রা আমার আর
গামছা কেনা হলনা বটে তবে এসব সময়ে আমি মনে মনে খুব হাসি ! তোমরা যাই বলো, তাই বলো,
সফিসটিকেশনের নাড়া লাগাও, ভালোবাসো অথবা নাই বাসো,জীবনের সব পর্বে যে এই গামছাখান
শ্রীঅঙ্গে একেবারে লেপ্টে লুপ্টে গ্যাঁট হয়ে বসে আছে, সে কথা মোটেও অস্বীকার করতে
পারবেক লাই ! ও ছাড়া চলবেক লাই ! জীবনের সব নানান ওঠাপড়া যাতে সহজে গায়ে না লাগে
সেজন্যেই তো এই ফুলশজ্যের রাতের মতন নরম সুতোর পাক দেওয়া, ডুরে, ডুরে ঘের তোলা
লালচে গোলাপী পানকৌরী বৌয়ের মতই মিষ্টি গামছার অমন অমর অকাট্য সৃষ্টি ! বঙ্গজীবনের
এ এক মস্ত বড় অঙ্গ, মানে ইয়ে অঙ্গ ঢাকার লজ্জাবস্ত্র আর কি !
সেই যে
অন্নপ্রাশন থেকে শুরু হয়েছে গামছার সালতামামি, একেবারে ঘাটে কোমর বেঁধে মায়া
প্রপঞ্চময় জীবনটারে এক মুঠো ছাই করে ভাসিয়ে দেওয়া অব্দি এর ফুরসত নাই।কি একটা
অদ্ভূত উদাসীন জীবনমরণ দর্শন আছে গামছায়, সে আর বলব কি ! মানে রনে, বনে, জলে, জঙ্গলে, জন্ম থেকে মৃত্যু
টোটাল প্যাকেজে সর্বত্র আপনার সঙ্গী হয়ে থাকবেই এ জিনিস! একে 'কলঘরের অ্যাকসেসরিজ'
বলে কোন ইয়ে ! হিন্দু ঘরের ছেলে হয়েছ কিম্বা মেয়ে, গামছা ছাড়া এক মুহূর্ত চলবে?
পৈতে হোক বা গায়ে হলুদ, গলায় গামছা জড়িয়ে লজ্জা লজ্জা মুখ করে কোটি কোটি উলুর মাঝে
উলুখাগড়ার মত দাঁড়িয়ে সেই গামছাই না শেষ অবধি অঙ্গ ঢাকবে! অমন যে লাজুকলতা পেরথম
বার মঙ্গল ঘটের ওপর বিয়ের সময় হাতে হাত
রাখা তাও তো সেই গামছা ঢেকেই! তা সে আঙ্গুলে কে কাকে পুট করে রামচিমটি কাটলে
লোকচক্ষুর আড়ালে, সে কম্ম গামছা জানে ! গামছা জানে প্রথম বড় হওয়ার গোপন গোপন কথাও।
জানি এইখানে খিক খিক সমস্বরে অমনি গোলযোগ শুরু হলো বলে, তাই আর উহু উহু.....বিশদে
যাব না! তাও একটা খুব মজার কথা জানিয়ে রাখি, মানে প্লিজ স্পোর্টিংলি নেবেন
কিন্তু! আমার এক প্রাক্তন কলিগ ছিলেন ভারী
মুখ ফসকানো গোছের, প্রায়ই ইষৎ আদিরসাত্মক ইয়ার্কি টিয়ার্কি করতেন । তো তার কাছে
একদিন গুরুতর সমস্যার কথা তুলল একটি সদ্য বিবাহের বয়ঃপ্রাপ্ত বয়সে নবীন, এক অধস্তন
সহকর্মী। তার ভারী সমস্যা যে তার বিয়ের বয়স হলো এবেলা, কিন্তু বাবা মা সে কথা মোটে
বুঝছেন না। তাই অগত্যা কি করা যায় সে প্রশ্নের উত্তরে আমার সেই অগ্রজ সহকর্মীটি
একঘর লোকের মাঝে সেই ছেলেটিকে বোঝালেন, যে সমাধান একটাই, গামছা ! ছেলেটিকে শুধু
এইটুকু কত্তে হবে, যে স্নানের আগে নিম্নাঙ্গে গামছা জড়িয়ে সূর্যের আলোর বিপরীতে
দাঁড়াতে হবে, আর সে দৃশ্য ,গুরুজনেরা প্রত্যক্ষ করলেই, ব্যাস, কেল্লা ফতে। পরের
অঘ্রানেই বাপ বাপ করে বিয়ের জন্য কনে খুঁজবেন তারা। বুঝুন দিকি !! ছেলেটি তো সেদিন
লজ্জায় লাল, কিন্তু বাকিরা হা হা হি হি হেসেই অস্থির। গামছার এহেন মহিমাও আছে
তাহলে !
গামছা ছাড়া
বিয়েশাদি তো অসম্ভব।তবে তত্ব তালাশে গামছা দেওয়া মানে সে ওই দশকর্মা ফেরত মরমড়ে
মাড় দেওয়া লাল সবজে গামছা।যেটা কিনা শেষ অবধি স্থান পায় রান্নাঘরের ন্যাতাজন্মে।
তবে হুঁ, এক নিকট আত্মীয়ের বিয়েতে ফুলশয্যার তত্বে ফুরফুরে বিদেশী তোয়ালের সাথে
লাল টুকটুকে গামছাও দেখেছিলাম। তা সে গামছা তোয়ালেকে বলে আমায় দ্যাখ ! সাদা ধপধপে
নরম চাদরের মত, পাড় ধরে লাল গোলাপী ফুল তোলা, সর্বাঙ্গে হাজার বুটির কাজ ! ও
জিনিসের পরে কোথায় লাগে রাজহাঁসের গায়ের মতন তোয়ালে ! অবিশ্যি সে আমাদের বাঙালি
গামছা নয়, সে ছিল অসমের বিখ্যাত গাত্রাবরণ। অমন নরম ধপধপে সুচারু সুচিশিল্পে বোনা
জিনিস, নেহাতই স্নানঘরে ব্যবহার হবে, সে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি ! শেষমেষও বিয়ের
কয়েক বছর পরে দেখলুম, নতুন বউ কেমন সুন্দর সে গামছা কেটে টিভির ওয়ার বানিয়ে
ফেলেছে। এ প্রজন্মের কাছে যদিও তা দূর অস্ত, তবে বাঙালি গামছার মজা, যারা ব্যবহার
করেছে তারা জানে।আমার মেজকাকার বিয়ের পরদিন গামছা মেলতে গিয়ে ওতে লাগা সিঁদুরের
দাগ টাগ নিয়ে প্রচন্ড রকম গা টেপাটেপি হাসির অর্থ বুঝেছি আমাদের বড়বেলায়, কিন্তু
গামছার সাথে জীবনের হাসিকান্নার এই অনুষঙ্গগুলো মনে গেঁথে গেছে একেবারে। প্রচন্ড
গরমের দিনে, আমাদের শৈশবের সেই ঘুম ঘুম বাথরুমে, চৌবাচ্চা থেকে বরফগলা ঠান্ডা জল
গায়ে ঢেলে, লাইফ বয় সাবান ঘষে ঘষে স্নান সেরে দড়িতে টাঙানো গোলাপী গামছাটি টেনে
আচ্ছা করে গা, মাথা মুছে কিউতুকুরা পাওডার গায়ে ঢেলে, পাজামা আর গেঞ্জিপরে
আসনপিঁড়ি হয়ে বসে ভাত ,মাছের ঝোল খাওয়ার সে যে কি আরাম, তোয়ালেশোভিত ২০১৬'র ছোকরা
বুঝবে কি করে ! যেমন ফুরফুরে, তেমনই হালকা। গরমের দিনে বাড়িতে ফিরেই গামছা জড়িয়ে
বড়, সেজ, মেজ কর্তারা কেউ বাগানে, কেউ ছাদে আবার কেউ বা পাড়ার চায়ের দোকান অবধিও
ঘুরে আসতেন। ওতে ওদের কৌলিন্য একটুও কমেনি বলে জানি। তবে হ্যা, এ জিনিস আধা স্বচ্ছ
বলে আর হাওয়া হাওয়াই বলে খামোকা নিজেকে আঁভা গার্দে পরিচয় দিতে গিয়ে সেল্ফ-এক্সিবিট
করতে যাবেন না, উড়ে টুরে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে। তেমনধারা সে এক ঘটনা হয়েছিল আমার
মায়ের ক্ষেত্রেও। সে আমার মায়ের প্রাক-বিবাহ পর্বের এক গপ্প।এক সুদর্শন, শিক্ষিত, ডাক্তার
পাত্রপক্ষের ভারী পছন্দ হয়েছিল তাঁকে। তো তারা নেমন্তন্ন করেছেন আমার মাতামহ সহ হোল
ফ্যামিলিকে বাড়িতে দুপুরের খাওয়া দাওয়ায়। আমার মা তখন সতেরো সবে। ছেলের বাড়ি বসে গল্পগুজব
কত্তে কত্তে চুপচাপ একটি ঘরে বসে বইয়ের পাতা উল্টোছিলেন। তো সম্ভাব্য পাত্রমশাই স্নান
টান সেরে ওই ঘরেই এলেন এবং এলেন হ্যা, গামছা পরে !নধর দেহে কটিবস্ত্র গামছায় শোভিত
হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উনি ক্যালকাটার নবকুমার, চুলে টেরি বাগাছিলেন আর ট্যারা
চোখে দেকছিলেন বিছানায় বসে থাকা লাজুকলতা আমার মাকে। আবহে বাজছিল, 'আজি দখিনো দুয়ার
খোলা, এসো হে....'। কিন্তু দখিনো দুয়ার খোলা থাকলেই কি, উদোম হয়ে গামছা পরে বাইরের
মেয়েমানুষের সামনে হুট করে চলে আসা ! সে দৃশ্য আমার বিদুষী এবং রেলের বড়সায়েবের বড়
কন্যা মাতামহীর মোটে পছন্দ হয়নি। ওঁর তো আক্কেল গুড়ুম, সঙ্গে সঙ্গে তলব হলো 'লাঞ্চ
বন্ধ, গো ব্যাক !' এমন অসভ্য ফ্যামিলিতে আর যাইহোক মেয়ের বিয়ে হবে না। সেযাত্রা ওই
গামছাই কিন্তু বাধ সেধেছিল। সুতরাং, জানি, 'ইয়ে আরাম কা মামলা হ্যায়' তবু কতটা বেঁধে আর ইয়ে কতটা খুলে সব কিন্তু আপনারই হাতে,
নইলে 'আরাম হারাম হ্যায়'।
তবে সেকালে কিন্তু
লিটারেলি গা- মোছা ছাড়াও গামছার ছিল অন্যান্য ব্যবহারও।পুরনো নরম হয়ে যাওয়া গামছা
ভালো করে গরম জলে ফুটিয়ে শুকিয়ে, আমার বড় ঠাকুমা কেমন সুন্দর সার সার কলাইয়ের ডালের
বড়ি দিতেন। আমাদের ভার ছিল লাঠি হাতে পাহারা দেওয়ার । ছাতের আলসেতে বসে যেত সারি
সারি কাক। এক পা এগোলেই, হুশ, আরেক পা এগোলেই হাশ ! বড়ি শুকিয়ে গেলে তুলে নেওয়া হত
আর গামছার গায়ে ফুটে থাকত সাদা চাকা চাকা বড়ি থুড়ি খড়ি প্রিন্ট ! তারপর ধরো গে ,
পুজোআচ্চায় বামুনঠাকুরকে আর কিছু দাও না দাও, গামছা একখান দিতেই হইব! মাথায় ওই
গামছা বেঁধেই যজ্ঞ হবে আর পুজো অন্তে কলাটা, মুলোটা, সিধেটা ওই গামছায় বেঁধেই তো
যজমানের গৃহ থেকে প্রস্থান করবেন উনি ! আর যজ্ঞিবাড়ির কথা ? সে তো না বললেই নয় !
কোমরে গামছা বেঁধে লুচি ছোলার ডাল, বোঁদে পরিবেশন করার সেসব নির্মল আনন্দের দৃশ্য
? সেটা একালের ছেলে মেয়েরা চোখে দেকেনি। আজকালের মত স্যুট-টাই পড়ে কি আর পরিবেশন
হয় ! নাচতে নাচতে ধোঁকার ডালনার বালতি নিয়ে এসে অষ্টাবক্র মুনির মত বেঁকে গিয়ে পরিবেশনকারী
দাদা বা কাকার হাত গলে পাতে চলকে পড়বে এক হাতা ডালনা আর স্যুট করে কোমরের গামছায়
ঘাম মুছে পরের পাতের দিকে চলে যাবে হাত, ওহো ! কি সব দিন ! শুধু কি তাই? কেমন
সাম্যের ভাব লক্ষ করুন ! শুভ অনুষ্ঠানে তিনি হাজির থাকেন বলেই অশুভতে থাকবেন না
,এমনটি কদাপি নয়কো। কেউ চোখ বুজবে বুজবে করে খাবি খাচ্ছে তো ব্যাস, রাতদুপুরে
পাড়ার ছেলে ছোকরারা কোমরে গামছা বেঁধে এক্কেবারে রেডি। কাঁধে শুয়ে শুয়ে হরিনাম করে
ভদ্দরলোককে একেবারে বৈতরণী পার করে দিয়েই নিঃশ্বাস নেবে।আর সঙ্গী কে, না সেই
সর্বঘটে কাঁঠালী কলা, গামছা! সে তো কোমর বেঁধেই রয়েছে।
তবে এটা ঠিক, গামছার
কিন্তু একটা সর্বভারতীয় পরিচয় রয়েছে। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় তো দেহাতি গাড়োয়ান থেকে
হিন্দুস্তানি রিক্সাওয়ালা সকলের এজমালি সম্পত্তি গলায় ঝোলানো একখান তেলচিটে গামছা।
ওতেই ঘাম মুছে সোয়ারী নিয়ে দৌড়ঝাঁপও চলছে আবার দুপুর বেলায় চাড্ডি চিঁড়ে জল দিয়ে ভিজিয়ে
গামছায় বেঁধে আখের গুড় দিয়ে দিব্য খেয়ে লাঞ্চ ও সারা হচ্ছে! এমন মাল্টিপারপাস জিনিস
বাপু ভূভারতে নেই।অসমের কথা তো আগেই বলেছি তবে গামছাকে অন্য লেভেলে নিয়ে গেছেন বিনোদ
বিহারীরা ( মানে বিনোদন উদ্রেক করি বিহারী সম্প্রদায় !) গামছাকে গলায় ঝুলিয়ে মাইক হাতে
মঞ্চ অব্দি নিয়ে গেছেন তাঁরা , দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্টেজ জুড়ে সতেজ গামছার গলকম্বল ! তবে
হ্যা, দক্ষিনে এর আলাদা গুমোর ! সে জিনিস কাঁধে ঝুলিয়ে তারা সভাসমিতি অব্দি যান, তবে
সে একেবারে ধপধপে সাদা অ্যারিস্টক্রেট ব্যাপার স্যাপার!
যদিও প্রায় বিলুপ্ত
হয়ে যাওয়া যে প্রজাতিরা এখনো টিমটিম করে গামছায় মোছামুছি চালাচ্ছেন তারা ওই দশকর্মা
দোকানের বা হাট থেকে কেনা শান্তিপুরী গামছায়ই সন্তুষ্ট কারণ ওই বছরকার দিনে গঙ্গাস্নান
যাওয়া ছাড়া আর তো ও জিনিস ব্যবহারই হয় না কিন্তু তবু ভালো গামছার আজও দর বেশ ! এসব
শুনে টুনে যাঁরা ভাবছেন, বেলাবেলি এখান ভালো গামছা কিনে রাখলে মন্দ হয় না, তাদের কানে
কানে বলি ! এই দুপুরের দিকটায় ভাত টাত খেয়ে একগাল পান চিবিয়ে হাওড়া বা শিয়ালদা থেকে
বর্ধমান বা বীরভূমের যে কোনো ট্রেনে উঠে পড়ুন দিকি ! ব্যান্ডেল পেরুবে না, তার আগেই
একগাল হাসি নিয়ে গামছাওয়ালা হাজির হয়ে যাবেক। শান্তিপুরী, ধনেখালি, ফুলিয়ার তাঁতের
গামছা, খড়কে ডুরে, শান্তিনিকেতনি সে কালেকশন শেষ হওয়ার নয়! বিবি রাসেল নয় নাই হলুম,
তাবলে কি আর গামছার গর্বগাথা করব না ?
No comments:
Post a Comment