বেলা বারোটা নাগাদ ছোটকা হনহনিয়ে বাড়ি ঢুকে সদরঘরের তক্তাপোষের ওপর ধপ করে বসে পড়লেন । পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে চোখ নাচিয়ে বললেন," টিকিটটা কেটেই ফেললাম বৌদি,এবার শীতে শিমলা" । রান্নাঘর থেকে চায়ের বাটিতে ফু দিতে দিতে মা আসছিলেন, বেড়াতে যাওয়ার খবর শুনেই ওঁর মাথা থেকেও ঘোমটা খসে পড়ল ,উনুনের আঁচে নাকি আনন্দে মা'র গালগুলো দেখি লাল!! , "ওমা সেকি ।" দু কান এঁট করা হাসি হেসে ছোটকা পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা হলদেটে কাগজ বের করে আনলেন, ঠিক যেন ম্যাজিশিয়ানের আস্তিন থেকে জাদু তাস ।চায়ের কাপে শব্দ করে একটা চুমুক দিয়ে বললেন " সবে চাঁদুর চায়ের দোকানে বাজারের ব্যাগটা রেখেছি বুঝলে, দেখি কিনা ব্যাটা কাগজ সেঁটেছে , একেবারে শিমলে । খোঁজ খবর নিয়ে এক্কেবারে টিকেট কেটে, পয়সা জমা দিয়ে এলাম । বিল্টুটারও তো ও সময় ইস্কুলের ছুটি । দাদা নয় দু দিন ছুটি নেবে'খন ।" আনন্দে বুক তিরতির আমারও , ভাঁজ করা হলদে কাগজটা খুললাম । বড় বড় হরফে রং তুলি দিয়ে লেখা, " চলুন বেড়িয়ে আসি । শিমলা, কুলু, মানালি, আহারাদি সহ মাত্র ৫০১ টাকা ।" নিচে একটা বরফের পাহাড়ের কাঁচা হাতের ড্রয়িং । দুটো নীলরং পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে সূর্য উঠছে টকটকে লাল । আহা, শীতকাল। আহা, গোলাপফুল আঁকা বাক্স তোরঙ্গ নিয়ে বাঙালির "'চলুন ,বেড়িয়ে আসি'র " কুন্ডু স্পেশাল শুভযাত্রা ।
সেকালে সকলে পশ্চিমে যেত ।মানে জায়গাটা রাঁচি হোক বা ধলভূমগড়, তোপচাঁচি হোক বা পরেশনাথের পাহাড়, বাঙালির মুখে বাঁধা বুলি, পশ্চিমে চললেম । প্রধানত বিয়ের যৌতুকে পাওয়া গোলাপ বা পদ্মফুল, লতাপাতা আঁকা বাক্সতোরঙ্গ নিয়ে পেটরোগা বাঙালি হাওয়া খেতে যেত শিমুলতলায় কিম্বা দার্জিলিঙে সপরিবারে । শীতের পড়ন্ত বেলায় রেলগাড়িতে চড়ে ঝমাঝম ঝমাঝম মাঠ পেরিয়ে, ঘাট পেরিয়ে সেই নিরুদ্দেশ যাত্রার রোমান্টিকতায় কিন্তু আজও ঘাটতি পড়েনি এতটুকু , শুধু তার ধরন ধারণ বদলেছে মাত্র । উদ্দেশ্য কর্মসূত্রে হোক অথবা নিছক বায়ু ভক্ষণ, রেলগাড়িতে জানলার ধারের আরামটুকু কিনে নিতে পারলেই ব্যাস, আধা কাজ আপনার সারা । এরপর পানসি চলুক না,.বেলঘরিয়া অথবা তিনধারিয়া, যেখানে খুশি । আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ । তাই সেই ছোট্ট বেলার কু -ঝিকঝিক এঘর ওঘর ভাইবোনেদের খুশি গাড়ির সারি সারি এখনো দৌড়োয় মনের মধ্যে, আনমনেই । 'রেল কম ঝমা ঝম'..তারপরে যদিও আর পা পিছলে আলুর দম হয় না আজকাল, তবুও বিমান যাত্রার হূঊঊশ করে চটজলদি উড়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় স্বাচ্ছন্দ্য সুখ এর চেয়ে ঢের ভালো এই ঢিকঢিকিয়ে চলার অ-কুলীন যাত্রার নির্মল আনন্দ। আমার কাছে সে খুশি সময়ের সাথে একটুও কমেনি , বরং বেড়েছে বলা যায় ।
বেলাবেলি যাত্রা শুরুর নান্দীমুখটাও সেরে রাখি এবেলা । যাত্রার শুরুতেই হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়ির নিচে দাঁড়ানোর অমোঘ প্রতিক্ষাটা ছিল সেকালে প্রায় জাপানি হাইকুর মতই নির্মেদ, সরল একটুকরো রোদেলা কবিতা । সেই নেই মোবাইলের যোগাযোগহীন যুগে, দুরুদুরু বুকে ওই দুমুখো ঘড়ির নিচে দাঁড়িয়ে কতই না আশাতীত, আষাড়ে দাম্পত্যের সূচনা আবার সমাপ্তি দুটিই ঘটেছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের সুচরিতা সান্যাল সেই যে কমল মিত্তিরের মতন বাবাকে ফাঁকি দিয়ে 'বড়পিসির বাড়ি চিত্তরঞ্জন চললাম ' বলে আসলে পাড়াতুতো চিত্তদার সাথে পাড়ি দিল বোলপুর পৌষ মেলায় অথবা অল ইন্ডিয়া রেডিওর আমন্ত্রণে সেই যে বাড়ি ছেড়ে 'অডিশন দিয়ে আসছি' বলে হাঁটা দিলেন হাতিবাগানের শশধর মিত্র, এদের অনেকেরই জীবন পথের গতি প্রকৃতি বদলেছে হাওড়ার এই ঐতিহাসিক সময়-সান্ত্রীটির নিচে । স্টেশন জুড়ে ঘনঘন ব্যস্ততা, হনহন করে হেঁটে যাচ্ছে কুলির মাথায় সুটকেস, মুখে চিমনির মত একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে ভিড় হটাতে হটাতে বীরদর্পে গাড়ি ধরছেন সপরিবারে বাঙালি সাহেব , মাইকে মাঝে মধ্যেই ঘোষণা , অমুক এক্সপ্রেস ,তমুক সময়ে তমুক নম্বর প্লাটফর্ম ছেড়ে যাচ্ছে । ওদিকে ঘড়ির নিচে প্ল্যাটফর্মের দিক করে দাঁড়িয়ে আছেন জনৈকা সুচরিতা সান্যাল। ফুলছাপ সিল্কের শাড়ি আর জোড়া বিনুনি করা সুচারু কপালে বিন্দু বিন্দু টেনশন ঘাম আর হাতের মুঠোয় একটুকরো ভাঁজ করা কাগজ । কাগজে সস্তার ফাউন্টেন পেনে লেখা এক লাইনের আমন্ত্রণ, ' চলে এসো, ঠিক বিকেল পাঁচটার সময়, স্টেশনে বড় ঘড়ির নিচে' - - ইতি চিত্তরঞ্জন বোস , এমন সব কত প্রনয়গাথার সাক্ষী এই স্টেশন আর প্লাটফর্ম ছাড়া,হুইসল দেওয়া গাড়ি । আর আজকের কথা তো নয়, সেই রবি ঠাকুরের সময় থেকে বাঙালির ভ্রমন পঞ্জিকায় রেলগাড়ির যে মাহাত্ব্য তা কি কোনভাবে অস্বীকার করতে পারেন ? সেই যে মেয়েটির নাম , কমলা নাকি ক্যামেলিয়া ? তার সাথেও তো এই রেলগাড়ির কামরাতেই দেখা হয়েছিল কবির ।
রেলগাড়িতে বেড়ানোর, বিশেষত স্লিপার ক্লাসে বেড়াতে যাওয়ার একটা চিরকালীন আকর্ষণ ( শৌচাগার এর অস্বাচ্ছন্দ্য টুকু বাদ দিয়ে ) আছে, তা কি অস্বীকার করতে পারেন ? বেতের ঝুড়িতে উঁকি মারবে মরশুমী কমলালেবু , শৌখিন বাঙালি পরিবার গুছিয়ে জমিয়ে বড়, ছোট, মেজ, সেজ, ন , নতুন, রাঙ্গা, সোনা ইত্যাদি ইত্যাদি পাঁচমিশেলি সাইজের ক্রমানুসারে মাথা গুনে বসবে সিট জুড়ে । তারপর গাড়ি ছাড়লেই ছোট খোকার চাই ঝাল বাদাম , বড় খুকির চাই ঘটি গরম । সেজখুড়ির চাই গরম চা মাটির ভাঁড়ে , বড় জেঠামশাই এর খবরের কাগজ । মা বসবেন পশমের ব্যাগ খুলে পশমি সোয়েটারের উল কাঁটা গোলা নিয়ে । মধ্যে মধ্যেই ছোট খুকির পিঠের মাপ নেওয়া হবে আর হাত চলবে ট্রেনের চাকার মতই দ্রুত । বাবা গম্ভীর ভাবে গলা খাঁকারি দিয়ে চোখের কোন দিয়ে ইশারা করবেন সেজকাকা'কে ব্যাগ থেকে জয়্নগরের মোয়াটা বের করতে আর অমনি সেজকাকি ঝাঁঝিয়ে উঠেবন, গাড়িতে উঠে থেকেই তোমাদের খাই খাই শুরু ,বলি তোমরা তো ছেলেপুলেদের এক কাঠি ওপরে দেকচি । ছোটপিসি আর রাঙ্গাপিসি সিনেমা পত্রিকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে জোর তর্কাতর্কি চালাবে, অপর্ণা সেন এর চুলটা অমুক সিনেমায় আসল না পরচুলো, সুপ্রিয়ার সাথে নাকি সুচিত্রার সাথে ,কার সাথে উত্তমকুমার কে সবচেয়ে বেশি মানায়, ইত্যাদি ইত্যাদি । এর মধ্যে গাড়ি ঢুকবে বর্ধমান স্টেশন । মেজোকাকা সবাইকে ধাক্কা টাক্কা মেরে গুঁতিয়ে গাঁটিয়ে তার মুষ্টিযোদ্ধার মতন চেহারাটা নিয়ে বুলেট গতিতে বেরোবেন এবং কি অলৌকিক উপায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্লাটফর্ম থেকে উদ্ধার করে আনবেন শালপাতার ঠোলায় দেলখোশ মিহিদানা, নবাবভোগ্য সীতাভোগ ( সীতা কোন কালে এটি ভোগ করেছিলেন কিনা, রামায়ন অবিশ্যি বলে না ! )আর ফ্লাস্কে ভরে মালাই দেওয়া প্রায় রাবড়ির মত মিষ্টি চা।পরবর্তী স্টেশনগুলির খোরাক হাসিরাশি নজরানা পৌছে যাবে, মা, কাকিমাদের কাছে । তারপর.. বাসী খবরের কাগজ সিটের ওপর পেতে সকলে মিলে খানাপিনার খুশিয়াল বেত্তান্ত । রেল এর সাথে যাত্রীদের সম্পর্কের এই স্নেহ সন্দিহান সারণী ফুরোবে কি কোনদিন ? রেলযাত্রার এমন সব উপভোগ্য দৃশ্য কি বাঙালির জীবন থেকে একেবারেই মুছে যাবে ? বিমানের কথা না'হয় ছেড়েই দিলাম, এসি কামরায় ছিমছাম পেপারব্যাক পড়তে পড়তে আর চিপস খেতে খেতে কর্পোরেট বাঙালির ট্রেনযাত্রায় কি সেই আনন্দ আছে ?
কিশোরবেলায় আমার একটা খুব প্রিয়তম স্বপ্ন ছিল ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়ের পঞ্চপান্ডবের থেকে ধার নেওয়া । মানে সেই বাবলু, বিলু, বাচ্ছু দের দুরন্ত পাঁচজনা যারা কিনা হাজার রকম রহস্যের কিনারা করতে প্রায়ই দুমদাম করে বেরিয়ে পরত রাতের রেলগাড়িতে চেপে , কখনো হাজারিবাগ, কখনো শিমলা আবার কখনো বা হরিদ্বার । হইহই দুরন্ত ওই কচিকাঁচাদের সাথে থাকত মায়ের দেওয়া টিফিন কেরিয়ারে জিভে জল আনা সব খাবার দাবারের সম্ভার আর গাড়ি ছাড়লেই কেমন পাঁচজনে জানলার ধারে বসে তুমুল বাকবিতন্ডার মধ্যে সাবাড় করত সেসব সুখাদ্য , তার অভিভূত রকম বিবরণ পরে পরে খুউউব ইচ্ছে হত, রহস্য টহস্য যদি নাই বা পাওয়া গেল, নিদেন পক্ষে লুচি আলুরদম আর সন্দেশ নিয়ে রাতের রেলগাড়িতে দিকশুন্যপুরের দিকে যদি কোথাও একটা অজানায় অচেনায় চলে যেতে পারতাম ! সে আনন্দ কি আদপেও জুটবেনা আদতে এই জীবনে ? খুব দুঃখ করতাম, গৃহবন্দী মন ছটফট করত সেসব লেখা পড়ে । সেকালে ইস্কুলে ইস্কুলে এক্সকারশন বা শিক্ষামূলক ভ্রমনে যাওয়ার একটা চল ছিল । পি.টির মাষ্টারমশাইরা মুখে হুইসল পুরে ফিরিক ফিরিক করে কারণে অকারণে বাঁশি বাজিয়ে ছাড়া গরুর দল নিয়ে ট্রেনে উঠছেন ঝাড়গ্রাম কিম্বা শালবনির উদ্দেশে , সেসব ভারী প্রিয় দৃশ্য ছিল আমার । অনাগত স্বাধীনতার এই সব পুলক জাগানো কল্পনাতেই বিভোর হয়ে থাকতাম অথচ কপাল মন্দ, তেমন কোনো দূরপাল্লা'র শিকে ছিঁড়লোই না বরাতে । রাতের রেলগাড়ির স্বপ্ন ঝিক ঝিক ঝম ঝম করে ঘুমের মধ্যেই বেজে উঠত কেবল , কত দিন, কত রাত, বড় হওয়ার কষ্ট দিনলিপি জুড়ে ।
বিচ্ছেদের অফুরান আঘাতেই তৈরী হয় মিলনের অনাগত ইচ্ছে আর তার পুর্ণতাও মেলে ঠিক সময়ে । কাজেই বড় হয়ে ওঠা ইস্তক ভাগ্যদেবী প্রসন্ন হলেন এবং পেশাগত ভাবে রেলগাড়ির সাথে এমন দাম্পত্য জুড়ে দিলেন যে পরবর্তী বছর পাঁচেক কাটল কেবলমাত্র এ গাড়ি, ও গাড়ি করে । ইষ্টিশনই তখন ইষ্ট-দেবতা আর রেল গাড়িতেই মোক্ষ , ঠিক ওই সময়তেই এদেশটাকে বেশ রোমাঞ্চ ভরে দেখলুম, প্রাণ ভরে প্রত্যক্ষ করলাম জীবন। কাজের প্রয়োজনে খুব ছোটাছুটি করলাম ওই ক'বছর । বিমানে তো বটেই তবে বেশিটাই ট্রেনে। সঙ্গের ব্যাগপত্তরের মধ্যে যে জিনিসটা নিতে কক্ষনো ভুলতাম না, সে হলো আমার একা, বোকা নিভৃত ডায়েরি আর পেন । আপার বার্থের মাথায় চড়ে জানলার ধারে পড়ন্ত বিকেলের মায়াবী আলোয় 'ক্যামেলিয়ার' মত সেই অপার্থিব সুন্দরী মেয়েটির মুখ দেখে দেখে গোপনে কাগজে ফুটিয়ে তোলা তার মুখের আভাস অথবা হঠাত লিখে ফেলা দু চার লাইনের রক্তাভ কবিতার মধ্যে কি যে এক পরম পাওয়া লুকিয়ে থাকত, তা রসিক মাত্রেই অনুভব করতে পারেন । শেষ দুপুরের লালচে আলোয় জানলায় ছুটে চলা মাঠ, দোলমঞ্চ, বটতলা, বাউল প্রকৃতি, পানের বরোজ , শাপলাপুকুর সব যখন পিছনদিকে ছুটে যেত নির্ভুল তখন বেপথু মন এগিয়ে যেত সামনের দিকে , অনাগত ভবিষ্যতের দিকে। নাম না জানা স্টেশনটির লাল কাঁকুরে জমিতে রাঙ্গা ছোট প্লাটফর্ম এ গাড়ি যখন দাঁড়াত ক্ষণিক জিরিয়ে নিতে, মনও কি দাঁড়াত না একটুখানি ? মনে হত না , দুম করে নেমে যাই ! নিশ্চিত গন্তব্যে কি সব্বাইকে পৌঁছতেই হবে , সেই অরিন্দমের মত ? সত্যাজিয় রায়ের 'নায়ক' ছবির নায়ক অরিন্দম যেমন পৌঁছোন এক্কেবারে সঠিক স্টেশনে আর ভক্তদের আলিঙ্গনে, মালাচন্দনে ভূষিত হয়ে কালো চশমার আড়ালে লুকিয়ে নিতে পারেন , তাঁর যাবতীয় পিছনে ফেলে আসার ম্লান ইতিহাস এর স্টেশনগুলো। আমার কাছে নাহয় সেই না পাওয়ার ম্লান ইতিহাসগুলোই থাক পড়ে । বাকি সব বাক্সপত্তর, বংশপরিচয় থাক পড়ে । পড়েই থাকুক সিটের নীচে বিছানাবিলাস, আয়েশী সম্ভ্রম, থাক পড়ে দামী জুতোজোড়াটাও। আবার এই অচেনা দেশে হলুদ সর্ষে খেতের মধ্যে জীবন শুরু করি , কৃষান বালকের মত, নামগোত্রহীন দেশয়ালিদের মত ! হয় না ? ওই যে দূর থেকে দুরে টেলিগ্রাফের তার ছাড়িয়ে, ডালে ঝুলতে থাকা ফিঙের গান ছাড়িয়ে তিলমাত্র প্রদীপের মতন জ্বলছে সাদা বাড়িখানা , ঐখানে নতুন এক পরিচয়ে সংসার পাতলে কেমন হয় ? কত মানুষের তো গাড়ি ধরা হয় না চিরকাল, কত মানুষ তো ভুল করে, ভুল গাড়িতে চেপে বসেন আর পৌঁছে যান অন্য গন্তব্যে । স্টেশন ছেড়ে যাক না চলে, আমার স্মৃতি... সত্তা, আর যা কিছু ..ভবিষ্যত থাকুক কুয়াশা মেখে নিঃঝুম !....অপেক্ষা করে করে বাঁশি বাজিয়ে শেষমেষ ধোঁয়া উড়িয়ে চলে যাক রাতের নিশ্চিত রেলগাড়ি । কোথাও নিশ্চিত পৌঁছনোর প্রয়োজনটাই বা কি ? এমনি এমনিও তো বেড়িয়ে আসা যায় । চলুন, বেড়িয়ে আসি বরং ।
No comments:
Post a Comment