জীবনের একটা অলক্ষ্যে বয়ে
যাওয়া আছে । রোজ চলছে, ঢিমেতালে, দ্রুত, অতি দ্রুত অথবা স্লথ, কিন্তু চলার ক্ষান্ত
নেই । থেমে যাওয়া নেই । বয়ে যাওয়া আছে...আছেই । ঘড়ির কাঁটার শাসন কথাটা শুধুই যে কতিপয়
সাহিত্য প্রগলভের নিছক খেয়ালী শব্দ বাহার নয়, তা তো ভুক্তভুগী মাত্রেই বুঝি । কাজেই,
বছরের শেষ মাসের ক্যালেন্ডারের একটি মাত্র সম্বল হপ্তাশেষের লাল দাগানো ছুটির দিন যদি
আরো কয়েকটা লাল দিন নিয়ে আসে মুফতে, নিতান্তই পরে পাওয়া চোদ্দ আনার মত , তাহলে খুশি
হয় বয়িকি । শীতকাল যখন তুঙ্গে, শহর জুড়ে যখন সান্তা দাদুর স্লেজ গাড়ির অশ্রুত ঘরঘরানি,
কান পাতলেই গির্জার ঘন্টা ধ্বনি মাথার মধ্যে,
খুশির পার্ক স্ট্রিটে যখন চোখের কাজলে জ্বলজ্বলে নীলচে রোশনাই , লেপের ওমে চোখ খুললেই
যখন শিস দেওয়া বরফ কুচির মিঠে সকাল হাতের তেলোয় , তখন বাঙালির পায়ের তলায় নিয্যস সর্ষে
। হ্যা, বেরিয়ে পরেছিলাম আমিও সীমানা ছাড়িয়ে অসীম পথের খোঁজে । মনখারাপের মলিন পাড়া
পিছনে ফেলে , ফেরা পথ, চেনা পথ ডান দিকে ছেড়ে , পানসি চলল সেই সুদুর উড়িষ্যায় ।
জায়গাটার নাম তপ্তপানি । যতদুরে
চোখ যায়, কালচে সবুজ আর ফিরোজা নীল্ এর মখমলি কম্বল মোড়া পাহাড় । মধ্যে এঁকে বেঁকে
চলে গেছে চুলের কাঁটার মত পথ , কুমারীর সিঁথির মত পাহাড়ের শাসন কে দু ভাগ করে ইষৎ ঢালু
সে পথে গাড়ি চলেছে তো চলেছেই । তপ্তপানি অর্থাত গরম জলের কুন্ড । তা সে জিনিস এ দেশে
তো দুর্লভ নয় , সে বকখালি থেকে বক্রেশ্বর সর্বত্রই তো আছে শুনেছি । মাটির চোরা গরম
টগবগানো জলের ধারা গবগবিয়ে ওঠে মাটির বুক চিরে আর স্বাস্থ্য সন্ধানী থেকে ভক্ত বন্ধনী
সকলেই ঝাঁপিয়ে পরেন , ও জলে গলা ডুবিয়ে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মোক্ষলাভের রাস্তাটা সেরে
ফেলতে এইবেলা । তা খামোকা ওরিসায় এমন জায়গার সন্ধানে যাওয়ার উদ্দেশ্য একটাই, প্রকৃতিকে
আরও কাছ থেকে চেনা , গাছ মাটি পাহাড়ের আড়ালে থাকা এই কুমারী জায়গাটা কে আরও নিবিড় অনুভবে
জারিয়ে নেওয়া । তবে এহেন হীন উদ্দেশ্য শুধুই এ অধমের, বাকি যারা ছিলেন সেই সাহেবী কেজো
মানুষদের ,অনেকের ক্ষেত্রে, নিছক রিলাক্স করা, অথবা একত্রিশের বচ্ছর শেষ রাতটুকু লোকচক্ষুর
আড়ালে একটু জঙ্গুলে উদযাপন করা এবং বোতল খুলে বসার একটু অন্য রকম পটবদল , এই আর কি । তো, আমরা প্রায় জনা পনের , কাচ্ছা
বাচ্ছা মিলিয়ে রওয়ানা দিয়েছিলাম আনন্দ সেঁকে
নিতে , চেটে নিতে অথবা নিছক কিনে নিতে কিছু আলগা রোদেলা দিন ।বাধ সাধলো নিম্নচাপ । সেও সঙ্গী হলো শেষ মুহুর্তে
। কাজেই টিপটিপে থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টির হাত্চিঠি পড়তে পড়তে , ঘন সাদা থেকে ধুসর কালো
আকাশ উয়িন্দ স্ক্রিনে নিয়ে মনখারাপটা বেশ ঝুলে রইলো আকাশের মতই, যাওয়ার পথটুকু ধরে
।
বেরহামপুর বা অধুনা ব্রহ্মাপুর
ওরিসার গঞ্জাম জেলার পূবে সমুদ্র রেখা ধরে ভুবান্শ্বর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিনে
। তো, সেই পথ ধরে গেলেই বেরহামপুরের আরো ৫০ কিলোমিটার ওপরে এই তপ্ত পানি । থাকার মধ্যে
ওড়িশা টুরিসমের একমেবাদ্বিতীয়ম পান্থ-নিবাস । যদিও পান্থ নিবাসের দুঃখী নামের আড়ালে
ব্যবস্থা নেহাত মন্দ নয় । পাহাড় কেটে কেটে কয়েক ঘর লগ কেবিন ,মাঝে একফালি পাথর বিছানো
রাস্তা । রাস্তার দুপাশে বাহারি আলো আর ফুলের কেয়ারী যদিও প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্যের
ওপর বেশ খানিকটা বাবুয়ানি ফলানোর উদাহরণ । সে যাই হোক, এখানকার ঘরে ঢুকে চা কফি খেয়ে
একটু চাঙ্গা হয়েই, যেই না ব্যালকনির দরজাটা খুললাম, সে এক আশ্চর্য আরাম। ..চোখের, মনের,
সত্তার । সামনে দু বাহু প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছেন নগাধিরাজ । যতদুর চোখ পড়বে, শুধু
নীলাভ সবুজ অথবা সবুজাভো নীলের চোখ জুরোনো কুয়াশা ভেজা পাহাড় । সদ্য বৃষ্টি ভেজা সবুজের
সে জেল্লা, শব্দে ব্যাখ্যা করা.. .সে অসম্ভব । টুপটাপ গাছের পাতা থেকে খসে পরছে জল..,পাহাড়ের
মাথায় কোনো অদেখা , অজানা কুহেলি জনপদের থেকে ভেসে আসছে সাদা ধোঁয়া আর কুন্ডলী পাকিয়ে
সবুজের আঁচলে ভেসে বেড়াচ্ছে আসমানী মেঘের চাদর
। এ এমন একটা অনুভুতির জন্ম দেয় , যা বহু চেনা,
বহু বার অনুভূত, তবুও প্রতিবার যখন তার সামনে এসে
দাঁড়াই, গাড় শ্রদ্ধায় আর আবেগে মন সম্পৃক্ত হয়ে আসে, নত হয়ে আসে চোখ । নৈশব্দ্যের ও যে কি একটা অদ্ভূত গুমগুমে অশ্রুত শব্দ আছে, তা এইরকম
পরিবেশে এলেই টের পাওয়া যায় । শহরের ছাপ্পান্ন রকম ক্যাকফনির মধ্যে মনের মধ্যের যে
তারটা গুটিয়ে থাকে, এইরকম নিস্তভ্ধ মেঘপিয়নের দেশে এলেই সে যেন গা-টা মুছে , টানটান
হয়ে বসে, আর সামান্য সংবেদনের মেঘও তাকে ছুঁয়ে দেয় যখন তখন আর সে মনের উল্লাসে বেজে
ওঠে টুং টাং । পাহাড় পারে, একমাত্র পাহাড়ই পারে, মানুষকে বিশালের সামনে ক্ষুদ্রের একটু
আভাস দিতে, যেখানে এলেই মনের মধ্যের বিরাট 'আমি'
টা একটুহলেও থেঁতলে যায় আর ছোট 'আমি' থেকে বড় 'আমি' তে কোথাও একটা উত্তরণ ঘটে
।
দেখেছেন, ধান ভানতে শিবের
গীত শুরু করলাম আবার । একটু ফাঁক পেলুম কি, অমনি আবেগ এসে থাবা বসালো, বুকের মধ্যিখানে
। আমার সঙ্গীরা টেলিফোনে খবর দিলেন ( হ্যা, এখানে ঘরে ঘরে টেলিফোন ও আছে !) তারা নাকি
বেজায় রকম হল্লাখুশি মাচিয়েছেন তাদের ডিলাক্স রুমের লাগোয়া প্রকৃতিজ গরম জলের ফোয়ারা
ঘরে বসে । হ্যা, তপ্তপানি একেবারে সার্থকনামা এই একটি জায়গায় । পাহাড় কেটে বেরিয়ে আসা
উষ্ণ জলের স্রোত এরা বেশ মজাদার করে ঢুকিয়ে দিয়েছেন পান্থনিবাসের স্নানঘরের অন্দরে
। সেখানে গা ডুবিয়ে বসলেই, একেবারে সপ্তম স্বর্গের গ্যারানটেড সুখ । ধোঁয়া ওঠা গন্ধকের ( সালফার ) ঝাঁঝালো গন্ধ ভরা
পাথর চেরা জল আপনার অন্ধিসন্ধি তে ব্যথা বেদনাকে একেবারে নির্মূল করবেই, দাবি করে বলা
যায় , মানে যতদুর এদের ওয়েব সাইটের দাবি আর
কি । তো হইচই করে স্নান পর্ব চলতে চলতেই সকৌতুকে লক্ষ্য করলাম সকলের দেহে রুপোর গয়না,
আংটি ইত্যদি যা কিছু আছে তা সকলি সোনায় পরিনত হয়েছে । এই জলের সংস্পর্শে এলেই সিলভার
জাতীয় যে কোনো ধাতু সোনালী রং ধারণ করে এবং
ক্রমে ক্রমে নীল হয়ে শেষে কালোয় পরিনত হয় । হায় হায় সে আমাদের কি আক্ষেপ । রুপো কে
সোনা করার এই সুবর্ণ সুযোগ টি হাতছাড়া হলো বলে । তবে সে যাই হোক, পান্থনিবাসের এই রাজকীয়
স্নানটি যে প্রায় প্রবাদপ্রতিম টার্কিশ বাথ
কে মনে করিয়ে দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, স্নানবিলাসীরা আপনাদের ভ্রমন লিষ্টিতে এখনি
মার্কা দিয়ে রাখুন ।
স্নান সেরে ওঠার পর তপ্তপানির
গরম গরম ভাত, মাংসর ঝোল আর একটি অনবদ্য সবজির পকড়ি ( যাকে আমরা বাংলায় পকোরা বলে থাকি
) খেয়ে বৃষ্টিঝরা সন্ধ্যে
তে যেটি অবশ্য কর্তব্য সেটি বেতের চেয়ার পাতা বাংলোর হাতায় বসে সন্ধ্যে দেখা । মাথার ওপরে হারিকেনের আলো,
যদিও বৈদ্যুতিক তবুও এ পরিবেশে ঐটুকু ছলনায় মন ভুলবে , হলফ করে বলা যায় । গাছের পাতা
থেকে ঝরে পরা ছিম ছিমে জলের শব্দ যেন শীত সন্ধ্যের ফিসফিসে গল্পগাছা । পাহাড়ের সাথে, জলের সাথে, জঙ্গলের সাথে নিজের একান্ত
গোপনচারণ । আর এই পরিবেশেই জমে উঠলো স্মৃতির পাতা থেকে উঠে আসা মেমরি গেমের অমোঘ উস্কানি
। সেই যে রায়বাবুর 'অরণ্যের দিন রাত্রি' তে শহর থেকে গা জোয়ারি করে আসা উঠতি চারজন
যুবক আর অরন্যচারিনি দুই যুবতীর দেখা হলো ধলভুমগরের জঙ্গলে আর লেখা হলো এক অপলক প্রনয়্কাব্য ! সেই থেকে জঙ্গল মানেই আমার মধ্যে কেমন
সেঁধিয়ে গেছে এই মেমরি গেমের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ । যদিও এবার টেকচাঁদ ঠাকুর কিম্বা প্রফুল্ল বোস শোনা গেল না , শোনা
গেল না ক্লীয়পাত্রা কিম্বা জন. এফ.কেনেডির নামও , তবুও তো আবার স্মৃতির পাতা উল্টে
দেখা । হেঁটে চলা সেই " ডাউন দি মেমরি লেন " ধরে । আগুনে চাউনি আর সাংঘাতিক
স্মৃতিধর তিন মহিলা আর বাকিরা বলতে আমার মত দুগ্ধ্য পোষ্য গোটা ছয়েক নগন্য পুরুষ ,
এই নিয়েই জমে উঠলো সন্ধ্যের স্মৃতি পাহাড় । সঙ্গে আপেল গন্ধী ভদকা ও মাংসের বিবিধ কালোয়াতি
,টুকটাক মুখ চলতে চলতেই যখন স্মৃতির ভাঁড়ার শেষ , 'উল্লাস, উল্লাস,' স্বগোতক্তি করে
যখন সকলেই স্যাটাস্যাট পেগ শেষ করে খেই ধরছেন আগের ব্যক্তিত্বের , আমি তখন হারিয়ে গিয়েছি
মমতা ব্যানার্জি, বিরাট কোহলী অথবা সানি লিয়ন এর নামের দীর্ঘ তালিকার পিছনে ( আগ্গে হ্যা , সানি লেওন ও কিন্তু
এখন প্রাতঃ স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ,সে আপনি নিন্দুক যাই বলুন না কেন ! ) , আমার তখন কেবলি
চোখে ভাসছে সাদাকালো জঙ্গলের ফরাস পাতা দুপুর আর কাজল কালো দুটি চোখের এক অসামান্য
সুন্দরীর মুখ, হাসলে যার গালে এক অদ্ভূত টোল পরে, আর যিনি সমস্ত মনে থাকা স্বত্বেও
উল্টোদিকের দাম্ভিক সিগারেট টানা , গগলস পরা সুদর্শন যুবক টিকে জিতিয়ে দেন খেলার শেষ
পর্বে, কারণ হেরেও জিতে যাওয়ার তুরুপের তাস তাঁর সহজাত ।
মেমরি গেম ও সন্ধ্যের
পান, গান শেষ করতে হলো কারণ কতৃপক্ষ জানালেন কাঠ ভিজে যাওয়ায় বনফায়ারের আইডিয়াটা এ
যাত্রা স্থগিত তার বদলে অনুপম বদান্যতায় তাঁরা ট্রাইবাল ড্যান্স এর আয়োজন করেছেন অতিথি
দের জন্যে । বারিশ এর
সন্ধেয় ব্যাপারটা শোনালো বেশ । লাগোয়া কনফারেন্স হলে টালমাটাল পায় শহুরে বাবুরা পৌঁচলুম
শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে আদিবাসী নাচ দেখব বলে । সঙ্গের বন্ধুরা কয়েকজন "ওই দ্যাখ,
সাঁওতাল , সাঁওতাল " বলে হল্লা শুরু করলেন । আসলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই সেখানকার
আদি বা মূল বাসিন্দা অথবা ভূমিপুত্রদের যে সাঁওতাল ছাড়াও অন্য নামকরণ হতে পারে, সে
ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান ভান্ডার অসীম আর তারা যে সকলেই "দুলি" গোত্রীয় মোহন বাঁশি বাজানো যৌবন আগুন ছড়াতে
সিদ্ধ হস্ত সর্পিল রমনী সেটা আমাদের সিনেমা দেখা
অভিজ্ঞতার বদ্ধমূল ধারণা । সেই
ধারণার বাইরে গিয়ে শুধু একটা স্থানীয় মানুষ জনের জীবন থেকে উঠে আসা কিছু সংস্কার, কিছু
অধীত শিল্পকলার নমুনা হিসেবে তাদের নাচ দেখার জন্যে, গান শোনার জন্যে অথবা তারিফ করার জন্যে যে মুক্ত মন প্রয়োজন সেটা বোধহয় আমরা হারিয়েছি শহরের
অলিগলিতেই । তাই জঙ্গলে ঘুরতে এসেও শাসক ও শাসিতের চিরন্তন সিঁড়ি ভাঙ্গা কেমিস্ট্রিটা
অক্ষুন্নই থাকে । নেশায় ভরা দর্শকদের চোখগুলো তখন আধবোজা , চতুর্থ রাউন্ড মদের পর জঙ্গুলে একঘেয়ে সুরের গান ও নাচ
রসোত্তীর্ণ হলো কিনা,"হু
কেআরস "? দুই যুবতী , এক যুবক
ও এক প্রবিনার নাচ তখন কনফারেন্স হলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ধুঁকে ধুঁকে বেজে
চলেছে দাফলির তালে তালে । নাচতে নাচতে খসে পড়ল খোঁপার গোলাপ একজনের মাথা থেকে ...খুব
সাধ হচ্ছিল সবার আড়ালে ওই গোলাপটা কুড়িয়ে নি আর হারিয়ে যাই...জঙ্গলের সত্যি সন্ধ্যের
অন্ধকারে । যেখানে পান্থনিবাসের জেনারেটরের ভটভট শব্দটা আর পৌঁছবে না, পৌঁছবে না....শুধুমাত্র
এন্তার্টেনড হতে আসা শহুরের কেজো মানুষদের নেশারু হুইসল । সেখানে নীলাভ পাহাড়ের কোলের
কাছে অন্ধকারে জেগে থাকবে কুপি জ্বালা নিবন্ত ঘর । আর ভিজে লাল মাটির রাস্তা ধরে এগিয়ে
আসবে টালমাটাল লন্ঠনের আলো, অন্ধকারে কাঁচপোকা টিপ ঝলসে উঠবে কালো মেয়েটির কপালে...আর
মহুয়ার গন্ধে হাওয়া ভারী হয়ে উঠবে ক্রমশ । কখন যে সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে ব্যালকনি তে
এসে দাঁড়িয়েছি সিগারেট ধরাবো বলে , জ্যাকেটের পকেটে আগুন খুঁজতে হাতরাচ্ছি এদিক ওদিক , চোখে পড়ল বৃষ্টি থেমে
গেছে কখন আর অদ্ভূত এক মন খারাপিয়া হলদেটে চাঁদ কখন গুঁড়ি মেরে উঠে এসেছে বন পাহাড়ের
মাথায় । একটা শিরশিরে হাওয়া ঝলক ঝলক বয়ে নিয়ে আসছে একটা নাম না জানা ফুল অথবা ফলের
গাড় মিষ্টি ,ঝাঁঝালো গন্ধ আর বুকের ভিতরটাও ঠান্ডা হয়ে আসছে ক্রমশ একটু উষ্ণতার জন্যে
।
No comments:
Post a Comment