ঝাঁকি দর্শন~
অধীর
অপেক্ষার অবসান
ঘটিল ।
জীবনস্মৃতি দেখিলাম । বহু প্রতিক্ষার
পরে, ফলবান
গাছে যেমতি
পুষ্প ফুটিলে,
চিত্ত পুলকিত
হয় , সে
পুলক জাগিল
, কিন্তু ক্ষণিক
মাত্র
। এ পুষ্পের গন্ধ
বড় স্থায়ি
হইলো না
। ঋতুপর্ণ ঘোষ যে ছবির
ব্যবস্থাপক ও চিত্র পরিচালনার ভার
লইয়াছেন , এবং সর্বপরি ভবদীয় শ্রীল
শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় এর
জীবনপঞ্জি যে ছবির বিষয় , তার
প্রতি প্রথম
হয়িতে দর্শক
কুলের এক
অদম্য কৌতুহল
গড়িয়া উঠিবে,
ইহাই স্বাভাবিক
। কিন্তু রবিজীবনির সর্বজনবোধ্য ,শিশুপাঠ্য
তথ্য গুলিকে
সরলীকৃত করে
পরিবেশনা, একদিকে যেমন ইহার 'তথ্যচিত্র'
নামাঙ্কন কে
সঙ্গত কারণেই
সমর্থন করে,
অপরদিকে দর্শক
কুলের বিপুল
চাহিদার যোগান
দিতেও কোথাও অসমর্থ
হয় বৈকি
। বিশেষত ,স্বর্গীয় ঋতুপর্ণ বাবুর
পরিচালিত বলিয়াই
বোধহয়, তথ্যচিত্র
দেখিতে গিয়াও
, সাধারণ দর্শক
অপেখ্হায় থাকেন
কিছু অসামান্য
মুহূর্ত প্রতক্ষ
করার , যা
ঠিক সহায়িকা
পুস্তকের ন্যায়
প্রাঞ্জল ও
তথ্যবহুল নহে
। বরং রবি ঠাকুরের
কীর্তিময় জীবনের
অন্তরালে অসংখ্য
প্রাপ্তি ও
অপ্রাপ্তির যে দুঃখময় মরমী ইতিহাস
রহিয়াছে, এই
চিত্রে প্রত্যাশিত
ভাবেই পরিচালক
তাহার থেকে
ইতিহাস টুকু
সযত্নে বাদ
দিয়াছেন , এবং শিল্পিত সহমর্মিতায় সখ্যতার
সহিত গল্পকার
হিসেবে তাহাকে
চলচিত্রায়িত করিয়াছেন , যাহার মধ্যে ফ্রেম
এ বাঁধানো
মুহুর্তমঞ্জরিও , প্রানের আলোকে উদ্ভাসিত
হয় ,এক
অনুপম আলেখ্যে
, কিন্তু তাহার
সময় বড়
কম ।
এই
দীর্ঘ জীবনের যে বিস্তার ও
প্রসার , তাহাকে
যদিচ অল্প
সময়ে প্রত্যক্ষ
করানো,
যে কোনো চলচিত্রকারের পক্ষে, বিষম
জটিল , তাহা
অনস্বীকার্য । তদুপরি, সরকার বাহাদুরের
, অর্থানুকুল্যে এই চিত্র নির্মানের সময়
ইহাকে শুধুমাত্র
তথ্যবহুল করিবার
যে শৃঙ্খলিত
প্রচেষ্টা চোখে পরে, তাহা পরিচালক
কেও কতটা
সৃষ্টিশীল আনন্দ দিয়াছিল, সে
বিষয়ে সন্দেহ
থাকিয়া
যায় । তাই ঝাঁকিদর্শন এর
ন্যায়, বাল্য,
কৈশোর, যৌবন
ও সায়ংকালের
রবীন্দ্রনাথ এর জীবন পঞ্জিকার বেশ
কিছু মূহুর্তর
এক অনুপম
মন্তাজ হইয়াই
এই বিপুল
সম্ভাবনাময় উদ্যোগের পরিসম্পাতি ঘটিল ।
চরিত্র নির্বাচন
ও চিত্রায়ন
এর মুন্সিয়ানা
লক্ষনীয় ।
যদিও তাহা,
ঋতুপর্ণ ঘোষ
এর দর্শক
দিগের জন্য
নতুন কিছু
নহে ।
প্রভুতভাবে, চরিত্রের কণ্ঠদান এ যে ভাবনার সাক্ষর
পরিচালক রাখেন,
তাহা তারিফ
যোগ্য ।
বিশেষত, যুবক
রবির কন্ঠে
কৌশিক সেন
, এবং বার্ধক্যে
জয় গোস্বামী
, এই স্বর
প্রয়োগ বিশেষ
মাত্রা
আনিয়াছে । সুর ও স্বরের
কৌশলী প্রয়োগ
এবং প্রেক্ষাপটে
সঙ্গীত ও
ধ্বনির নির্মেদ
উপস্থিতি , যথেষ্ট রিতুপর্ণচিত, নিঃসন্দেহে ।
তবে, এডিটিং
নিয়া কিছু
প্রশ্ন থাকিয়া
যায় ।
তথ্যচিত্র ধর্মানুযায়ী , নেপথ্যে ভাষ্য পাঠে
একটি কণ্ঠস্বরের
বদলে, ভিন্ন
কন্ঠের উপস্থিতি
এ ছবিকে,
কিছুটা হইলেও
,অন্যতর মাত্রা
প্রদান করে
। তবে কিছু কিছু স্থানে
, বিশেষত মহর্ষি
দেবেন্দ্রনাথ ও আরো কিছু চরিত্রের
রূপসজ্জা নিয়া
একটু যত্নের
অভাব চোখে
পরে ।
এক্ষণে
একটি কথা
বিশেষ রূপে
বলার, বেশ
কিছু দৃশ্যে
যেভাবে পরিচালক
তার বহু
চর্চিত এবং
পরীক্ষিত ছবির
ভিতর ছবি
অর্থাত , Film within Film এর
নিরীক্ষা সম্পন্ন
করেছেন , তাতে
তার রবিন্দ্রবিক্ষণের
এতটুকু ত্রুটি
সাধন ঘটে
নাই ।
যে দৃশ্যে
মেঘলা মেদুর
দিনে, কিশোর
রবি খাটের
ওপর উপুর
হইয়া লিখিতেছেন
, 'গহন কুসুম
কুঞ্জ মাঝে',
আর অন্বেষক
ঋতুপর্ণ তার কোমল দৃষ্টি তে
দরজার ফাঁক
হইতে তাকে
দেখিতেছেন , সে দৃশ্য টি আমাদের
মনে এক
অপরূপ স্থান
করিয়া লইলো
। কোথায় যেন পরিলাম, পরিচালক
বলিয়াছেন, রবীন্দ্রনাথ কে খুঁজিয়া পায়িবার
জন্য , যতগুলি
চাবি খুলিয়া
, যতগুলি দরজা
খুলিয়া, জোড়াসাঁক
স্থ
ভবনে তিনি তাহার অনুসন্ধান
করিয়াছেন , তাহা যথেষ্ট নহে ।
সত্য বটে
। তাঁকে প্রত্যক্ষ করিবার যে
রত্ন ভান্ডার
তিনি বিশ্ববাসী
কে দিয়া
গেলেন ,তাহা
অশেষ ও
চিরকালীন ।
সেই ঋষি
,সেই দার্শনিক
কবিজিবনী কে
, ঠিক তার
চরিত্র চিত্রায়ন
এর মতই
,দর্শক ও
প্রথম হইতে
শেষ অবধি
প্রত্যক্ষ করে । এ এক গুঢ়ো অনুভব
ও অনুভূতির
মেলবন্ধন ।
"মধুর তোমার শেষ নাহি পাই."......!
No comments:
Post a Comment