Friday, June 24, 2016

জীবনস্মৃতি ~চিত্র আলোচনা

ঝাঁকি দর্শন~
অধীর অপেক্ষার অবসান ঘটিল জীবনস্মৃতি দেখিলাম বহু প্রতিক্ষার পরে, ফলবান গাছে যেমতি পুষ্প ফুটিলে, চিত্ত পুলকিত হয় , সে পুলক জাগিল , কিন্তু ক্ষণিক মাত্র    পুষ্পের গন্ধ বড় স্থায়ি হইলো না ঋতুপর্ণ ঘোষ যে ছবির ব্যবস্থাপক চিত্র পরিচালনার ভার লইয়াছেন , এবং সর্বপরি ভবদীয় শ্রীল শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় এর জীবনপঞ্জি যে ছবির বিষয় , তার প্রতি প্রথম হয়িতে দর্শক কুলের এক অদম্য কৌতুহল গড়িয়া উঠিবে, ইহাই স্বাভাবিক কিন্তু রবিজীবনির সর্বজনবোধ্য ,শিশুপাঠ্য তথ্য গুলিকে সরলীকৃত করে পরিবেশনা, একদিকে যেমন ইহার 'তথ্যচিত্র' নামাঙ্কন কে সঙ্গত কারণেই সমর্থন করে, অপরদিকে দর্শক কুলের বিপুল চাহিদার যোগান দিতেও কোথাও  অসমর্থ হয় বৈকি বিশেষত ,স্বর্গীয় ঋতুপর্ণ বাবুর পরিচালিত বলিয়াই বোধহয়, তথ্যচিত্র দেখিতে গিয়াও , সাধারণ দর্শক অপেখ্হায় থাকেন কিছু অসামান্য মুহূর্ত প্রতক্ষ করার , যা ঠিক সহায়িকা পুস্তকের ন্যায় প্রাঞ্জল তথ্যবহুল নহে বরং রবি   ঠাকুরের কীর্তিময় জীবনের অন্তরালে অসংখ্য প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির যে দুঃখময় মরমী ইতিহাস রহিয়াছে, এই চিত্রে প্রত্যাশিত ভাবেই পরিচালক তাহার থেকে ইতিহাস টুকু সযত্নে বাদ দিয়াছেন , এবং শিল্পিত সহমর্মিতায় সখ্যতার সহিত গল্পকার হিসেবে তাহাকে চলচিত্রায়িত করিয়াছেন , যাহার মধ্যে ফ্রেম বাঁধানো মুহুর্তমঞ্জরিও , প্রানের আলোকে  উদ্ভাসিত হয় ,এক অনুপম আলেখ্যে , কিন্তু তাহার সময় বড় কম এই  দীর্ঘ জীবনের যে বিস্তার প্রসার , তাহাকে যদিচ অল্প সময়ে প্রত্যক্ষ করানোযে কোনো চলচিত্রকারের পক্ষে, বিষম জটিল , তাহা অনস্বীকার্য তদুপরি, সরকার বাহাদুরের , অর্থানুকুল্যে এই চিত্র নির্মানের সময় ইহাকে শুধুমাত্র তথ্যবহুল করিবার যে শৃঙ্খলিত প্রচেষ্টা চোখে পরে, তাহা পরিচালক কেও কতটা সৃষ্টিশীল আনন্দ  দিয়াছিল, সে বিষয়ে সন্দেহ থাকিয়া  যায় তাই ঝাঁকিদর্শন এর ন্যায়, বাল্য, কৈশোর, যৌবন সায়ংকালের রবীন্দ্রনাথ এর জীবন পঞ্জিকার বেশ কিছু মূহুর্তর এক অনুপম মন্তাজ হইয়াই এই বিপুল সম্ভাবনাময় উদ্যোগের পরিসম্পাতি ঘটিল
চরিত্র  নির্বাচন চিত্রায়ন এর মুন্সিয়ানা লক্ষনীয় যদিও তাহা, ঋতুপর্ণ ঘোষ এর দর্শক দিগের জন্য নতুন কিছু নহে প্রভুতভাবে, চরিত্রের কণ্ঠদান যে ভাবনার সাক্ষর পরিচালক রাখেন, তাহা তারিফ যোগ্য বিশেষত, যুবক রবির কন্ঠে কৌশিক সেন , এবং বার্ধক্যে জয় গোস্বামী , এই স্বর প্রয়োগ বিশেষ মাত্রা  আনিয়াছে সুর স্বরের কৌশলী প্রয়োগ এবং প্রেক্ষাপটে সঙ্গীত ধ্বনির নির্মেদ উপস্থিতি , যথেষ্ট রিতুপর্ণচিত, নিঃসন্দেহে তবে, এডিটিং নিয়া কিছু প্রশ্ন থাকিয়া যায় তথ্যচিত্র ধর্মানুযায়ী , নেপথ্যে ভাষ্য পাঠে একটি কণ্ঠস্বরের বদলে, ভিন্ন কন্ঠের উপস্থিতি ছবিকে, কিছুটা হইলেও ,অন্যতর মাত্রা প্রদান করে তবে কিছু কিছু স্থানে , বিশেষত মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ আরো কিছু চরিত্রের রূপসজ্জা নিয়া একটু যত্নের অভাব চোখে পরে


এক্ষণে একটি কথা বিশেষ রূপে বলার, বেশ কিছু দৃশ্যে যেভাবে পরিচালক তার বহু চর্চিত এবং পরীক্ষিত ছবির ভিতর ছবি অর্থাত , Film within Film এর নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন , তাতে তার রবিন্দ্রবিক্ষণের এতটুকু ত্রুটি সাধন ঘটে নাই যে দৃশ্যে মেঘলা মেদুর দিনে, কিশোর রবি খাটের ওপর উপুর হইয়া লিখিতেছেন , 'গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে', আর অন্বেষক ঋতুপর্ণ তার  কোমল দৃষ্টি তে দরজার ফাঁক হইতে তাকে দেখিতেছেন , সে দৃশ্য টি আমাদের মনে এক অপরূপ স্থান করিয়া লইলো কোথায় যেন পরিলাম, পরিচালক বলিয়াছেন, রবীন্দ্রনাথ কে খুঁজিয়া পায়িবার জন্য , যতগুলি চাবি খুলিয়া , যতগুলি দরজা খুলিয়া, জোড়াসাঁক স্থ  ভবনে  তিনি তাহার অনুসন্ধান করিয়াছেন , তাহা যথেষ্ট নহে সত্য বটে তাঁকে প্রত্যক্ষ করিবার যে রত্ন ভান্ডার তিনি বিশ্ববাসী কে দিয়া গেলেন ,তাহা অশেষ চিরকালীন সেই ঋষি ,সেই দার্শনিক কবিজিবনী কে , ঠিক তার চরিত্র চিত্রায়ন এর মতই ,দর্শক প্রথম হইতে শেষ অবধি প্রত্যক্ষ করে এক গুঢ়ো অনুভব অনুভূতির মেলবন্ধন "মধুর তোমার শেষ নাহি পাই."......!

No comments: